কণকচূড়ার ডায়েরি থেকে
কণকচূড়ার ডায়েরি থেকে.. (শম্পা)
******************----**********
ইদানিং যেন কোথাও ফেরার তাড়া নেই,না অফিস যাবার তাড়া না বাড়ি ফেরার। খুব দেরী হয়ে গেলো- ভাবলেই আরো যেন শ্লথ হয়ে পড়ি। আলমারি খুলে পোশাকের কথা না মনে করেই দাঁড়িয়ে থাকি বেশ কিছুক্ষণ। রান্নাঘরে গিয়ে জানলায় জড়ো করি আধপোড়া দেশলাই কাঠি, আর তাতে আরেকবার আগুন লাগিয়ে ফাঁকা একটা দৃষ্টি নিয়ে পুড়ে যাওয়া দেখতে থাকি। অনেকক্ষন পর মনে হয় মেয়েকে খেতে দিতে হবে,রান্না চাপাই। আমার ব্যাক্তিগত এলবামের সব ছবি সিলিং থেকে পড়া বর্ষার জলে ধুয়ে গেছে। যা কিছু মলিন সে সমস্তটাই বৃষ্টির দায়িত্বে ছেড়েছি বহুদিন। কোথাও যাবার ছিল,যেতে যেতে অন্য কোথাও এসে স্থবির হয়ে যাওয়া একটা সেকেন্ডের কাঁটার যন্ত্রনা নিয়ে বইয়ে নিচ্ছি দিন দুপুর আর রাত। বোল্ডে লেখা হেডিং এর অন্তরে শূন্য কন্টেন্টে নিদারুন ঝুঁকি নিয়ে এক পা দু পা করে এগিয়ে চলেছি ডেডলাইনের দিকে। অনেক কিছু বাকি রয়ে গেল ভাবতে ভাবতেই দোকান চলে আসে,আর আমি লরিয়েল হেয়ার কালার কিনে বাড়ি নিয়ে আসি আমায়। এ যেন মেধাবী কোনো যন্ত্রনাকে পরীক্ষায় বসানো। ভালো ফল করবে জেনেও যার আই কিউ নির্ধারনে বিস্তর চেষ্টা করে যাওয়া। কি ভীষণ রিভার্স কাউন্টিং এর ইচ্ছে নিয়ে চোখের ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট পিছিয়ে দিই।দু হাতে চোখ ঢেকে রাখি শৈশবকালীন বিশ্বাসে- কেউ দেখতে পাচ্ছেনা আমায়! কেউ জানতে পারছেনা কত টানাপোড়েনের পর ক'লাইন লিখেছি-
নদীর দিকে মুখ করে বসে থাকি-
আমি নিজেই জাহাজ এবং বন্দর।
যার সারাজীবনে পাল তোলাই হলনা,
তুমি তার খবর রেখোনা।
কেউ জানলোনা কত খবর হারিয়ে গেলো তোমাদের ইচ্ছের সাথে অসম যুদ্ধে। কেউ বল্লনা আরো আরো কত খারাপ হতে পারি আমি! কতগুলো আঙ্গুল তোলা তোমাদের আরো বাকি রয়ে গেলো। তোমাদের জন্যেও করুনা হয়। নাহ,কোনো সিংহাসন আর রাখিনা বহুদিন, না আছে দেবতা না উপাচার। একদিকে ভালোই হলো, সিংহাসনচ্যুত হবার ভয় খানিকটা কমানো গেলো। দোষ, ত্রুটি, লোভ ইত্যাদি রিপু কে জয় করা আমার মত অতি সাধারনের কম্ম নয়, ঢাকার অবশ্য বিপুল চেষ্টা করেছি। নিরাপদ দূরত্বে যখনি এসেছো নিজেকে উজার করতে গিয়ে কখন যে দোষ ত্রুটি উজার করে দিয়েছি এবংহদ্দ বোকার মত ভালোবাসার মিথ নিয়ে উদ্বাহু নৃত্য করতে গিয়ে বুঝেছি ঠিক কতটা অপদার্থ আমি। আবার ফিরে গেছি ডায়েরির কাছে। সুবিধেবাদী আমি টাকে চোখ মুছিয়ে খাইয়ে দায়িয়ে কোল পেতে দিয়েছি। চোখে এঁকে দিয়েছি নতুন কোনো মিথ। ভায়োলিন বাজিয়ে বাজিয়ে ক্লান্ত একটা ছেলেবেলাকে বলেছি কবিতা লিখতে। সে অক্ষর পেতে পেতে কোলবালিশ বানিয়েছে,উঠোন তুলসী তলা আর রাধাচূড়া বানিয়েছে,কুটনো,ফুটন্ত ভাত,আদর ঝগড়া বানিয়েছে। কতগুলো পাখী বানিয়েছে আর তাদের জন্য আকাশ আর আমি দেখবো বলে জানলা। ঘুমের ঘোরে সব আত্মস্থ করেছি। শুধু ঢাকাই শাড়ি আর লাল টিপের জন্য জল আসে চোখে, ওদের তো আমি ছাড়া কস্মিনেও কেউ ছিলনা!
( Shampa Chatterjee
#কণকচূড়ারডায়েরিথেকে#শম্পা
******************----**********
ইদানিং যেন কোথাও ফেরার তাড়া নেই,না অফিস যাবার তাড়া না বাড়ি ফেরার। খুব দেরী হয়ে গেলো- ভাবলেই আরো যেন শ্লথ হয়ে পড়ি। আলমারি খুলে পোশাকের কথা না মনে করেই দাঁড়িয়ে থাকি বেশ কিছুক্ষণ। রান্নাঘরে গিয়ে জানলায় জড়ো করি আধপোড়া দেশলাই কাঠি, আর তাতে আরেকবার আগুন লাগিয়ে ফাঁকা একটা দৃষ্টি নিয়ে পুড়ে যাওয়া দেখতে থাকি। অনেকক্ষন পর মনে হয় মেয়েকে খেতে দিতে হবে,রান্না চাপাই। আমার ব্যাক্তিগত এলবামের সব ছবি সিলিং থেকে পড়া বর্ষার জলে ধুয়ে গেছে। যা কিছু মলিন সে সমস্তটাই বৃষ্টির দায়িত্বে ছেড়েছি বহুদিন। কোথাও যাবার ছিল,যেতে যেতে অন্য কোথাও এসে স্থবির হয়ে যাওয়া একটা সেকেন্ডের কাঁটার যন্ত্রনা নিয়ে বইয়ে নিচ্ছি দিন দুপুর আর রাত। বোল্ডে লেখা হেডিং এর অন্তরে শূন্য কন্টেন্টে নিদারুন ঝুঁকি নিয়ে এক পা দু পা করে এগিয়ে চলেছি ডেডলাইনের দিকে। অনেক কিছু বাকি রয়ে গেল ভাবতে ভাবতেই দোকান চলে আসে,আর আমি লরিয়েল হেয়ার কালার কিনে বাড়ি নিয়ে আসি আমায়। এ যেন মেধাবী কোনো যন্ত্রনাকে পরীক্ষায় বসানো। ভালো ফল করবে জেনেও যার আই কিউ নির্ধারনে বিস্তর চেষ্টা করে যাওয়া। কি ভীষণ রিভার্স কাউন্টিং এর ইচ্ছে নিয়ে চোখের ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট পিছিয়ে দিই।দু হাতে চোখ ঢেকে রাখি শৈশবকালীন বিশ্বাসে- কেউ দেখতে পাচ্ছেনা আমায়! কেউ জানতে পারছেনা কত টানাপোড়েনের পর ক'লাইন লিখেছি-
নদীর দিকে মুখ করে বসে থাকি-
আমি নিজেই জাহাজ এবং বন্দর।
যার সারাজীবনে পাল তোলাই হলনা,
তুমি তার খবর রেখোনা।
কেউ জানলোনা কত খবর হারিয়ে গেলো তোমাদের ইচ্ছের সাথে অসম যুদ্ধে। কেউ বল্লনা আরো আরো কত খারাপ হতে পারি আমি! কতগুলো আঙ্গুল তোলা তোমাদের আরো বাকি রয়ে গেলো। তোমাদের জন্যেও করুনা হয়। নাহ,কোনো সিংহাসন আর রাখিনা বহুদিন, না আছে দেবতা না উপাচার। একদিকে ভালোই হলো, সিংহাসনচ্যুত হবার ভয় খানিকটা কমানো গেলো। দোষ, ত্রুটি, লোভ ইত্যাদি রিপু কে জয় করা আমার মত অতি সাধারনের কম্ম নয়, ঢাকার অবশ্য বিপুল চেষ্টা করেছি। নিরাপদ দূরত্বে যখনি এসেছো নিজেকে উজার করতে গিয়ে কখন যে দোষ ত্রুটি উজার করে দিয়েছি এবংহদ্দ বোকার মত ভালোবাসার মিথ নিয়ে উদ্বাহু নৃত্য করতে গিয়ে বুঝেছি ঠিক কতটা অপদার্থ আমি। আবার ফিরে গেছি ডায়েরির কাছে। সুবিধেবাদী আমি টাকে চোখ মুছিয়ে খাইয়ে দায়িয়ে কোল পেতে দিয়েছি। চোখে এঁকে দিয়েছি নতুন কোনো মিথ। ভায়োলিন বাজিয়ে বাজিয়ে ক্লান্ত একটা ছেলেবেলাকে বলেছি কবিতা লিখতে। সে অক্ষর পেতে পেতে কোলবালিশ বানিয়েছে,উঠোন তুলসী তলা আর রাধাচূড়া বানিয়েছে,কুটনো,ফুটন্ত ভাত,আদর ঝগড়া বানিয়েছে। কতগুলো পাখী বানিয়েছে আর তাদের জন্য আকাশ আর আমি দেখবো বলে জানলা। ঘুমের ঘোরে সব আত্মস্থ করেছি। শুধু ঢাকাই শাড়ি আর লাল টিপের জন্য জল আসে চোখে, ওদের তো আমি ছাড়া কস্মিনেও কেউ ছিলনা!
( Shampa Chatterjee
#কণকচূড়ারডায়েরিথেকে#শম্পা
Comments
Post a Comment